ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজন ইস্যুতে পিছুটান আওয়ামী লীগের

  • আপলোড সময় : ০৫-০৫-২০২৪ ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-০৫-২০২৪ ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন
উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজন ইস্যুতে পিছুটান আওয়ামী লীগের
দলীয় প্রতীক ও প্রভাবমুক্ত উপজেলা নির্বাচন করতে চায় টানা চতুর্থ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দল  আওয়ামী লীগ। সেজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের স্বজনরা এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেয় দল। এই ইস্যুতে দল কঠোর অবস্থানে যাবে বলেও বেশ কয়েকবার বার্তা দেয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অনেকটা নীরবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকারি দলটি। কারণ কঠোর বার্তা দিয়েও এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের অনেককে ভোট থেকে নিবৃত করতে পারেনি দলটি। এই বিষয়টি আর নতুন করে সামনে আনছে না আওয়ামী লীগ। ফলে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজনরা নির্বাচন করতে পারবে না এই অবস্থান থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদের অনেকেই নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানায় আওয়ামী লীগ। দলের সেই ভাবনায় অনেকের দ্বিমত থাকলেও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনেই ব্যক্তিগতভাবে ভোটের প্রস্তুতি নিতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এর মধ্যেই উপজেলা নির্বাচন ঘিরে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় ক্ষমতাসীন দল। দলীয় প্রধানের বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, কোনো এমপি-মন্ত্রীর স্বজনরা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কেউ প্রার্থী হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে ইতোমধ্যে মন্ত্রী-এমপিদের অনেকের স্বজনরা ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে একটি বড় অংশকে থামানো যায়নি। তারা ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনড় রয়েছেন। খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাইও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এই ইস্যুতে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে আওয়ামী লীগ নতুন করে আর কোনো কঠোরতা দেখাচ্ছে না। অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ নীরবে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে সর্বশেষ (৩০এপ্রিল) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও বের হয়- কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের প্রার্থিতা নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে। অনেক এমপি-মন্ত্রী এর জন্য দলীয় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু সভা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, সভায় উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের প্রার্থিতা ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদানুবাদ হতে পারে সেই ভয়ে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের পর আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালকসহ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির স্বজন ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। তবে আলোচিত অনেক নেতার স্বজনরা অনড় থাকেন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে ক্ষমতাসীন দল। ফলে বিষয়টি নিয়ে আপাতত চুপ থাকার নীতি গ্রহণ করে। সবশেষ ভোটের লড়াইয়ে নাম লেখিয়েছেন খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ওরফে শাহাদাত কাদের। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে মাহাবুবুর রশীদ মঞ্জুও। এই ব্যাপারে গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে প্রশ্নের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন এক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, আমার একজন স্বজনও উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে প্রশ্নটা হচ্ছে, আমাদের সমর্থন আছে কিনা। আমি তার পক্ষে প্রশাসন বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে কিনা সেটাই সেটাই দেখার বিষয়। যদিও সিদ্ধান্তের কথা জানানোর সময় এই ব্যাখ্যা দেননি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। উপজেলা নির্বাচনে অনেকেই দলের নির্দেশনা মানেনি, তাদের বিষয়ে দল কী ব্যবস্থা নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকেই এর মধ্যে প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন। আমাদের কয়েকজন আগেই প্রত্যাহার করেছেন। আমাদের গোলাম দস্তগীরের ছেলে প্রত্যাহার করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কথা হচ্ছে, ভাই হোক, স্বজন হোক আমি তাকে দাঁড় করিয়েছি কিনা। আমি তার পক্ষে সমর্থন দিচ্ছি কিনা, আমার দল সমর্থন দিচ্ছে কিনা সেটা হচ্ছে বড় কথা। আমি বা আমার দল যদি পক্ষে না থাকে তাহলে কেউ বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার বিষয়ে জড়িত নেই।
এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের যে স্বজনরা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের জন্য দলের কোনো আলাদা নির্দেশনা নেই। দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচন উন্মুক্ত।   দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন জানান, দলের পক্ষ থেকে এমপি-মন্ত্রীদের বিশেষ কোনো সুবিধা নেই, কোনো নির্দেশনাও নেই। তিনি বলেন,তাদের (এমপি-মন্ত্রীদের স্বজন) ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। স্বজন বলতে অনেক কিছু বোঝায়। হাজারো মানুষ স্বজন হতে পারে। তারা নির্বাচন করতে পারবে না কেন? পারবে। এতে কোনো সমস্যা নাই। তাদের জন্য কোনো নির্দেশনাও নেই।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স